কে কী বলেন


বই-অবিশ্বাসের দর্শন ( জনসচেতনতামূলক পোস্ট )- শফিউল জয়


বেশ কিছুদিন ধরেই আমি নিয়মিতভাবে একটা ব্যাপার নিয়ে পড়াশোনা করার চেষ্টা করছি, সেটা হচ্ছে মধ্যযুগের বাঙলা সাহিত্য এবং ঠিক তার পরপরই বাঙালি নবজাগরণ । নবজাগরণ বলতে আমি ঠিক উনিশ শতকের নবজাগরণকে বোঝাচ্ছি না, তার কিছু আগের সময়কালও বিবেচ্য । খ্রিস্টপূর্ব যুগেও বিশ্বের অনেক সভ্যতার সাথে বাঙালি আগেই পরিচিত ছিল বাণিজ্যিক কারণে । উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, প্রাচীনকালেও আমাদের সাথে যে ক্রিটদের বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল, তার প্রমাণ মেলে নানাভাবে এবং ক্রিট সংস্কৃতি এবং আমাদের সংস্কৃতি ছিল পারস্পরিক প্রভাবযুক্ত । এর মধ্যে একটা মজার সাদৃশ্য হোল, ক্রিটদ্বীপের নারীরা যেমন দেহের ঊর্ধ্বাংশ অনাবৃত রাখতো, আবার বাৎস্যায়নের কামসূত্র থেকে আমরা জানতে পারি, আমাদের এইদিকের অভিজাত নারীরাও দেহের ঊর্ধ্বাংশ অনাবৃত রাখতো । এছাড়া উভয় দেশের মাতৃদেবীর বাহক ছিল সিংহ, ক্রিটের প্রচলিত লিপির সাথে বাঙলার মার্কযুক্ত লিপির মিল ছিল । এরকম বহুবিধ ছাপ দেখা যায়, যা থেকে আমরা বুঝতে পারি আমাদের হাজার বছরের বাঙলা সংস্কৃতি হচ্ছে একটা মিশ্র সংস্কৃতি । তবে বাঙালি নবজাগরণ বা রেনেসাঁ হচ্ছে বাঙালির ইতিহাসে এমন একটা সময়, যখন বাঙালি তার জাতিগত কূপমণ্ডূকতা ছেড়ে পরিচিত হচ্ছে বহির্বিশ্বের চেতনার সাথে । বহির্বিশ্বের চেতনা বলাটা বোধ হয় ঠিক হোল না, আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে পশ্চিমা চিন্তা-চেতনার সাথে । পশ্চিমের চিন্তা চেতনা যে ভাববাদী এবং রক্ষণশীল বাঙালির মানসে এক সুবিশাল প্রভাব ফেলেছিল- তার প্রমাণ মেলে চারপাশের বিভিন্ন পরিবর্তনে । বাঙালি সেই সময় জানতে পারছে পাশ্চাত্যের দর্শনের কথা, শিল্পের কথা, সাহিত্যের কথা । তার প্রচলিত ধ্যান-ধারণা, যুক্তি-বুদ্ধি তখন সে ঝালিয়ে নিচ্ছে সেই আধুনিক জ্ঞানচর্চার সাথে, রামমোহন রায় আস্থা হারিয়েছেন প্রচলিত ঈশ্বর বিশ্বাসে, ডিরজিও তাঁর শিষ্যদের পড়াচ্ছেন “এইজ অফ রীজন” ( ডিরজিও তার অনুগতদের যে সরাসরি নাস্তিকতায় দীক্ষিত করেছেন- এর প্রমাণ মেলে বহু লেখাতে ) এবং সেই অনুগতদের অনেকেই পরবর্তীতে উনিশ শতকের বাঙলা নবজাগরণে অগ্রদূত ।
ঠিক কী কারণে এই নবজাগরণের সূচনা হয়েছিলো ?? আমি ইতিহাসবিশারদ না, তবে ইতিহাসের একনিষ্ঠ পাঠক । সেই ক্ষুদ্র জ্ঞানের আলোকে এইটুকু জানতে ( এবং বুঝতে ) পেরেছি, এই নবজাগরণের অন্যতম কারণ ছিল ইংরেজদের ছাপাখানার আমদানি ( প্রথম এনেছিল পর্তুগিজরা, তবে সেটা বিশেষ কোন কাজে আসে নি ) এবং মুদ্রণশিল্পের বিকাশ । জেমস অগাস্টাস হিকি নামের এক বিদেশী উদ্ভ্রান্ত কল্পনাও করতে পারেন নি, যে ভাঙ্গাচোরা কাঠের প্রেস দিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন, তা সেই দেশের চিন্তা-চেতনায় কী বৈপ্লবিক পরিবর্তন সাধিত করবে । তিনি ছিলেন সামান্য ব্যবসায়ী, এইসব পরিবর্তনে তার কোন মাথাব্যাথা ছিল না, যতোটা ছিল তার ব্যবসা নিয়ে । হিকির সালটা ছিল ১৭৭৭, ঠিক তার পরপরই ১৭৮৪ সালে কম্পোনির প্রেস থেকে বই প্রকাশিত হওয়া শুরু করে এবং ১৮০০ সালের আগে কমপক্ষে এক ডজন প্রেস স্থাপিত হয়েছিলো । বাকি অংশ পড়ুন মুক্তমনায়>>

অবিশ্বাসের দর্শনঃ আধারের বুক চিরে আলোর ঝলকানি।- আসিফ মহিউদ্দিন

সংশয়বাদ, বস্তুবাদ, নিরীশ্বরবাদ, নাস্তিক্যবাদ আমাদের ভারতবর্ষে কোন নতুন ব্যাপার নয়। প্রাচীন চার্বাক দর্শন থেকে আধুনিক নব্য নাস্তিক্যবাদী দর্শন (New Atheism) একেবারেই ইহলৌকিক চিন্তাচেতনা থেকে উদ্ভুত, যা প্রশ্ন করতে শেখায় এবং প্রশ্ন, সন্দেহ এবং পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ক্রমশ সত্যের কাছাকাছি পৌছাতে আমাদের দিক নির্দেশনা দেয়। আধুনিক বিশ্ব ক্রমশই অবিশ্বাসী বিশ্বে পরিনত হচ্ছে, পুরনো রুপকথার গল্প আর ছেলে ভুলানো ছড়াকে শিশুদের মন ভুলানোর জন্য রেখে দিয়ে আজকের বিশ্ব ধীরে ধীরে বস্তুবাদী বিশ্বে পরিনত হচ্ছে। আজকের বিশ্বের প্রয়োজন খাদ্য বস্ত্র চিকিৎসার মত গুরুত্বপুর্ণ বিষয় নিয়ে চিন্তার, কিভাবে এই সকল সমস্যা সমাধান করা যায় তা নিয়ে ক্রমগত চেষ্টা করে যাবার। কিন্তু আশ্চর্য হলেও সত্য যে এখনও পৃথিবীর দরিদ্র দেশগুলো থেকে শুরু করে উন্নত বিশ্বের অধিকাংশ মানুষ এখনও মেতে আছে দেবদেবী, দৈত্যদানব, রাক্ষসখোক্ষস, আল্লা ভগবান আর জ্বীন পরী নিয়ে।

ইউরোপে একটা সময় একটা বিপ্লব হয়েছিল, যেটা সমস্ত পৃথিবীতে অর্থনৈতিক সাম্যের বিপ্লব নামেই ডাকা হয়। পুরো পৃথিবীতে প্রাচীন কাল থেকে যেই অর্থনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করা হয়েছে, জনগনকে বুঝানো হয়েছে দারিদ্রের ভেতরেই সুখ এবং শান্তি, একধরনের মাদকময় পরিবেশ তৈরি করে জনগনকে শোষনের উপযুক্ত করে ধীরেধীরে তাদের আরও বেশি শোষন করা হয়েছে, সেই অর্থনৈতিক অসাম্যের বিরুদ্ধে একটা সময় পৃথিবীর দরিদ্র শ্রমজীবি মানুষ ফুসে ওঠে, বিপ্লব করে। তারা সেই অসাম্যের দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল ধরায়। বাকি অংশ পড়ুন সামহোয়ারিন ব্লগে